আমরা এমন কিছু খাবার আছে যা প্রতিদিন পুনরায় গরম করে খাচ্ছি। এরকম ১৩টি খাবারের সম্পর্কে আজ জেনে রাখুন যেগুলো ভুলেও পুনরায় গরম করবেন না। কারণ এগুলো দ্বিতীয়বার গরম করলে বিষাক্ত হয়ে ওঠে।
১.রোস্ট করা লাল মাংস
রোস্ট করা লাল মাংসও দ্বিতীয়বার গরম করলে এর প্রোটিনের রাসায়নিক কাঠামো এমনভাবে বদলে যায় যে তা আমাদের হজম প্রক্রিয়ায় গন্ডগোল সৃষ্টি করতে পারে।
২.মুরগির মাংস
অনেকেই সময় বাঁচানোর জন্য একবারেই অনেক মুরগির মাংস রান্না করে রাখি কিন্তু মুরগির মাংস বার বার গরম করে খাওয়া উচিত নয়। কারণ মুরগির মাংসে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে। রান্নার পরে ফের তা গরম করলে প্রোটিনের কম্পোজিশন বদলে গিয়ে তা থেকে বদহজম হতে পারে।
৩.ডিম
ডিমের মধ্যেও বেশি পরিমাণে প্রোটিন এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্টস থাকে। রান্নার পরে আবার তা গরম করলে ডিম থেকে টক্সিন তৈরি হবে যা থেকে বদহজমের আশঙ্কা তৈরি হয়।
৪. চা
এটা আমরা অনেকেরই জানা যে একবার চা বানানোর পর তা ঠান্ডা হয়ে গেলে
পুনরায় গরম করা উচিত নয়। কারণ চায়ের মধ্যে ট্যানিক অ্যাসিড থাকে। তৈরি করা
চা ফের গরম করে পান করলে লিভারের ক্ষতি হতে পারে।
৬. ভাত
ভাত রান্না করার সময় তাতে বেসিলস সিরিয়াস ব্যাক্টেরিয়া তৈরি হয়। রান্না করা ভাত ফের গরম করলে এই ব্যাক্টেরিয়া সংখ্যায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়ে ডায়েরিয়া পর্যন্ত হতে পারে।
৭.আলু
আলু রান্না বা সেদ্ধ করার পরে ঠাণ্ডা হওয়ার সময় তাতে বটুলিজম নামে একটি ব্যাক্টেরিয়া তৈরি হয়। ফের তা গরম করলে এই ব্যাক্টেরিয়ার সংখ্যাগুলি বেড়ে গিয়ে ফুড পয়জনিং পর্যন্ত হতে পারে।
রসুন মসলা জাতীয় ঔষধি গুন সম্পন্ন একটি খাদ্য উপাদান যা রান্নায় অনন্য স্বাদ যুক্ত করে। শত্তিশালী সুঘ্রাণের কারণে মাছ, মাংস, সবজি থেকে শুরু করে কাচ্চি, কারি রান্না রসুন ছাড়া চিন্তাই করা যায় না। শুধু রান্নায় স্বাদকে বাড়ানোর ক্ষেত্রে নয়, রসুনের পুষ্টিগুণ রসুনকে পৌঁছে দিয়েছে মসলার অন্যতম তালিকার মধ্যে। রসুনকে অনেকেই বলে থাকেন ‘পাওয়ার হাউস অব মেডিসিন অ্যান্ড ফ্লেভার’। ভিটামিন ও মিনারেলের পাশাপাশি রসুনে আছে সালভারভিত্তিক যৌগ অ্যালিসিন, যা অনেক রোগ নিরাময়ে কাজ করে। নিয়মিত কাঁচা বা সিদ্ধ রসুন সেবনে শরীর সুস্থ থাকে এবং বিভিন্ন রোগ দূর হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধও গড়ে তুলা যায়। কাঁচা রসুন চিবিয়ে খাওয়ায় শরীরে ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাশ প্রতিরোধী ক্ষমতা তৈরি হয়।
রসুন এর উপকারিতা
এবার জেনে নেই রসুন এর উপকারিতা সম্পর্কে।
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে
রসুন উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের মহা ঔষধ, যারা উচ্চ রক্তচাপে ভোগেন রসুন খাওয়ার ফলে তাদের উচ্চ রক্তচাপ অনেকটা কমে যায়। তাছাড়া রসুন হৃদপিণ্ডের সুস্থতায় কাজ করে, কোলেস্টেরল কমায়। এতে করে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে।
প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক
গবেষণায় দেখা গেছে রসুন একটি শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক এর মত কাজ করে। খালি পেটে রসুন খেলে শরীরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াসমূহ ধ্বংস করে ফেলে। ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণুঘটিত রোগ প্রতিরোধে হাজার বছর ধরেই রসুন ব্যবহৃত হয়। শিশুদের কৃমি দূর করতে রসুন ভালো কাজ করে।
ক্যানসার প্রতিরোধে
নিয়মিত রসুন সেবনে শরীরে সব ধরনের ক্যানসার প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়। প্রতিদিন কাঁচা ও রান্না করা রসুন সেবনের মাধ্যমে পাকস্থলী ও কোলন ক্যানসার প্রতিরোধ করা যায়। রসুন প্রোস্টেট ক্যান্সার প্রতিরোধেও অনেক বড় ভূমিকা পালন করে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
নিয়মিত
রসুন সেবনের ফলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং ঋতু পরিবর্তনের
সময় স্বাস্থ্যগত সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। রসুন শিরা-উপশিরায় প্লাক
জমাতে বাধা প্রদান করে।
সতর্কতা
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দিনে দু-তিনটির বেশি রসুনের কাঁচা কোয়া খাওয়া যাবে না। হাঁপানি রোগী বা শ্বাসকষ্ট আছে এমন ব্যক্তিরা রসুন ব্যবহারে সাবধান থাকুন। যাদের রসুনে অ্যালার্জি আছে তাদের রসুন না খাওয়াই ভালো। অপারেশনের আগে রসুন সেবন বন্ধ রাখতে হবে। অতিরিক্ত রসুন খেলে নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ, বমিভাব হতে পারে।
হঠাৎ করে নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়া একটা
পরিচিত সমস্যা। প্রথমে হয়তো এর কারণ জানা যায় না। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই এই
সমস্যার সমাধান বাড়িতেই সম্ভব। যদি তা না হয় বা নাক দিয়ে অনেক বেশি পরিমাণে
রক্তপাত হয় এবং আপনার দুর্বল লাগে তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সাধারণত নাকে কোনো ধরনের আঘাত পেলে, জীবাণু সংক্রমণ হলে, অ্যালার্জির কারণে, নাকের ভেতরে শুষ্ক থাকলে এবং খুব কম ক্ষেত্রে নাকের ভেতরে টিউমার থাকলে হঠাৎ করে নাক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে।
প্রতিরোধ
১. নাক দিয়ে হঠাৎ রক্তপাত হলে দাঁড়ানো থাকলে বসে পড়ুন। শোওয়ার চেয়ে এ অবস্থায় বসে পড়া ভালো।
২. আলতো করে নাকটা ধরুন। তোয়ালেতে বরফখণ্ড পেঁচিয়ে নাকে ধরুন। এতে রক্ত পড়া বন্ধ হবে।
৩. নাকের নরম অংশকে দুই আঙুলে চেপে ধরে থাকুন কয়েক মিনিট। এই সময় মুখ দিয়ে শ্বাস নিন। এতে সেপ্টামের ওপর চাপ পড়ে ও রক্ত বন্ধ হয়।
৪. নাক দিয়ে রক্ত পড়লে এক চা চামচ গোলমরিচ গুঁড়ো পানিতে মিশিয়ে খাইয়ে দিন রোগীকে। অনেকটা সুস্থ বোধ করবেন।
৫. শীতকালে নাকের ভেতরের শুকনো থাকায় অনেক সময় রক্তপাত হয়। এই সময় নাকের আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনতে লবণ-পানি তুলোয় মিশিয়ে নাকের ভেতরে দিন। লবণে সোডিয়াম থাকায় রক্তপাত কমে আসবে।
মলদ্বারে রোগ মানেই পাইলস নয়। মলদ্বারে বিভিন্ন ধরনের রোগ হতে পারে। যেমন- অ্যানাল ফিসার, পাইলস, ফিস্টুলা, অ্যাবসেস বা ফোঁড়া, রেক্টাল পলিপ, রেক্টাল প্রোলাপ্স, রেক্টাল ক্যান্সার, অ্যানাল ওয়ার্ট ইত্যাদি। এই সমস্ত রোগগুলোর প্রধান উপসর্গগুলো প্রায় একই এবং তা কাছাকাছি হওয়ার কারণে রোগীদের মনে সে সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হয়। তারা মনে করে যে, মলদ্বারে রোগ মানেই পাইলস হয়েছে এবং এই রোগ কখনো ভাল হয় না।
১. মলদ্বারে ব্যথা ২. জ্বালাপোড়া করা ৩. রক্ত পড়া (ফোঁটা ফোঁটা অথবা ফিনকি দিয়ে রক্ত পড়া) ৪. মলদ্বার ফুলে যাওয়া ৫. মলদ্বারে বাড়তি মাংস হওয়া ৬. মলত্যাগের সময় মলদ্বার দিয়ে মাংস বের হয়ে আসা ৭. মলদ্বারে চুলকানি ৮. মলদ্বারের পাশে ছোট ছিদ্র হয়ে পুঁজ পানি পড়া ৯. রক্ত মিশ্রিত আমাশয় হওয়া ১০. মলত্যাগের পর পূর্ণতা না আসা ১১. মলদ্বার সম্পূর্ণ বের হয়ে আসা পেরি এনাল এবসেস বা ফোঁড়া
চিকিৎসা
এই রোগে পায়খানার সময় মলদ্বারে প্রচণ্ড ব্যথা ও জ্বালাপোড়া হয় এবং পায়খানার সঙ্গে রক্ত পড়ে থাকে। ব্যথার প্রচণ্ডতা এত বেশি হতে পারে যে রোগী পায়খানা করতে ভয় পায়। এই ব্যথা পায়খানার পরও ২-৩ ঘণ্টা থাকতে পারে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলে মলদ্বারে চামড়ায় লম্বালম্বিভাবে ইসপ্লিট (ংঢ়ষরঃ) বা ফেটে যাওয়া দেখা যাবে। একিউট ফিসারের চিকিৎসা হলো পায়খানা নরম রাখা ও ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া। ক্রনিক ফিসারের ক্ষেত্রে অপারেশন হলো চিকিৎসা।
আমাদের রান্নার স্বাদ ও গন্ধ বাড়ানো এলাচের অন্যতম কাজ। কিন্তু তবে আপনি জানেন কি রান্না ছাড়াও আপনি এলাচ খেলে তা আপনার ১০ টি শারীরিক সমস্যা দূরে রাখবে? অনেকেই হয়তো বিষয়টি জানেন না। কিন্তু প্রতিদিন মাত্র ১ টি এলাচ খাওয়ার ফলে নানা রকম সমস্যার সমাধান পাবেন। তবে আসুন জেনে নেওয়া যাক এলাচের উপকারী গুণ সম্পর্কে
এলাচের উপকারিতা
১) এলাচ এবং আদা সমগোত্রীয়। আদার মতোই পেটের নানা
সমস্যা এবং হজমের সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে এলাচ অনেক কার্যকরী। বুক
জ্বালাপোড়া, বমি ভাব, পেট ফাঁপা, অ্যাসিডিটির হাত থেকে মুক্তি পেতে এলাচ
মুখে দিন|
২) এমনকি দেহের ক্ষতিকর টক্সিন দূর করে দিতে এলাচের জুড়ি নেই।
এলাচের ডিউরেটিক উপাদান দেহের ক্ষতিকর টক্সিন পরিষ্কারে সহায়তা করে|
৩)
আর রক্তনালীতে রক্ত জমে যাওয়ার সমস্যায় ভুগে থাকেন অনেকেই। এলাচের রক্ত
পাতলা করার দারুণ গুনটি এই সমস্যা থেকে মুক্তি দেবে। প্রতিদিন এলাচ খেলে
রক্তের ঘনত্ব সঠিক থাকে।
৪) মুখে খুব বেশি দুর্গন্ধ হয়? একটি এলাচ নিয়ে চুষতে থাকুন। এলাচ মুখের দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে মুখের দুর্গন্ধ দূর করে।
৫) এলাচের ডিউরেটিক উপাদান উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা কমিয়ে আনতে সক্ষম। দেহের বাড়তি ফ্লুইড দূর করে এলাচ উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করে।
৬) নিয়মিত এলাচ খাওয়ার অভ্যাস মুখের দুর্গন্ধের পাশাপাশি মাড়ির ইনফেকশন, মুখের ফোঁড়া সহ দাঁত ও মাড়ির নানা সমস্যা থেকে রক্ষা করে
৭) এলাচের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ত্বকে বয়সের ছাপ, রিংকেল, ফ্রি র্যাহডিকেল ইত্যাদি পড়তে বাঁধা প্রদান করে। এলাচ ত্বকের ক্ষতি পূরণেও বেশ সহায়ক হয়
৮) এক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত এলাচ খাওয়ার অভ্যাস ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে। এলাচ দেহে ক্যান্সারের কোষ গঠনে বাঁধা প্রদান করে থাকে।
গ্যাস্ট্রিকের ব্যথাকে মেডিকেল সায়েন্সে পেপটিক আলসার ডিজিজ বলা হয়। পেপটিক আলসার ডিজিজ বলতে অতিরিক্ত গ্যাস্ট্রিক এসিড দ্বারা পাকস্থলীর মিউকোসার প্রদাহর ফলে সৃষ্ট গ্যাস্ট্রাইটিস, গ্যাস্ট্রিক আলসার ও অন্যান্য আলসারকে বুঝানো হয়ে থাকে। যদিও মানুষ সাধারন ভাবে এটিকে গ্যাস্ট্রিক বা গ্যাস নামে অবিহিত করে থাকে, তবে পেটে গ্যাস উৎপাদন বা অধিক গ্যাস নির্গমনের সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই বললেই চলে। আমাদের দেশে এ রোগীর সংখ্যা পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। গরীবদের মধ্যে এ রোগ বেশি হয়, তবে নারী পুরুষ প্রায় সমানভাবে এ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।
গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা বা পেপটিক আলসার ডিজিজ প্রতিরোধ
নিয়মিত খাবার গ্রহণ করা।
ভাজাপোড়া খাবার পরিহার করা।
দুশ্চিন্তা পরিহার করা।
পর্যাপ্ত ঘুমানো।
ধূমপান বা মদ্যপান বন্ধ করা।
ব্যথানাশক ওষুধ যথাসম্ভব কম সেবন করা।
গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা বা পেপটিক আলসার ডিজিজ এর চিকিৎসা
এন্টাসিড: এন্টাসিড, এন্টাসিড প্লাস, মারলক্স ইত্যাদি।
রেনিটিডিন: রেনিসন, রেনিটিড, নিউট্যাক ইত্যাদি।
ওমিপ্রাজল: সেকলো, কোসেক, ওমিনিক্স, ওমিগাট, ওমিটিড ইত্যাদি।
প্যান্টোপ্রাজল: প্যান্টোগাট, প্যানটিড ইত্যাদি।
ইসোমিপ্রাজল: ম্যাক্সেপ্রা, নেক্সাম, এক্সিয়াম, ইসোটিড, ইত্যাদি।
রেবিপ্রাজল: রেব, ফিনিক্স ইত্যাদি।
অপারেশন
পেপটিক আলসারের ক্ষেত্রে অপারেশন সাধারণত জরুরি নয়। তবে দীর্ঘ মেয়াদী ঔষধ সেবনের পরও যদি রোগী ভাল না হন, কিছু খেলে যদি বমি হয়ে যায় অর্থাৎ পৌষ্ঠিক নালীর কোনো অংশ যদি সরু হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে অপারেশন করিয়ে রোগী উপকৃত হতে পারেন।
দিন দিন ক্যান্সার যেমন বাড়ছে, পাশাপাশি বাড়ছে এই রোগটি সম্পর্কে সচেতনতা। ক্যান্সার মানেই মৃত্যু নয় এটা আজ মানুষ বুঝতে পেরেছে । সচেতনতার কারনে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সুযোগও বাড়ছে। প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পরলে এবং চিকিৎসা করলে ক্যান্সার পুরোপুরি সেরেও যেতে পারে অথবা ক্যান্সারকে নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেক সহজ হয়। বাড়ন্ত অবস্থায় ধরা পড়লেও বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে রোগীর কষ্ট কষ্ট অনেকটা কমানো যেতে পারে।
টিউমার মানেই কি ক্যান্সার?
টিউমার মানেই কিন্তু ক্যান্সার নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে মানুষের সচেতনতা দিন দিন বৃদ্ধির পাশাপাশি নানা রকম রোগের ভীতি যোগ হচ্ছে। আজকাল অনেকেই ছোট একটি টিউমার হলেই ক্যান্সার হল ভেবে দুঃশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়েন। অনেক সময় চিকিৎসক বুঝিয়ে বলার পরও ভয় কাটতে চায় না। আমাদের টিউমার বা ক্যান্সার সম্বন্ধে প্রাথমিক কিছু ধারণা না থাকার কারনে অনেক পরীক্ষার পরও ভয় থেকে যায়, রিপোর্টে সঠিক আছে কিনা? তাই । টিউমার বা ক্যান্সার সম্বন্ধে প্রাথমিক কিছু তথ্য জেনে নিন।
ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার লক্ষন?
অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজন সংক্রান্ত সকল রোগের সমষ্টিই ক্যান্সার নামে
পরিচিত। এই রোগে মৃত্যুর হার অন্যান্য রোগের তুলনায় অনেক বেশি। এরোগের
ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। সাধারণত প্রতি
চার(৪) জন ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে ১ জন ব্যক্তি মারা যায়।
সাধারণত সাতটি বিষয়কে ক্যানসারের বিপদ সংকেত বলা হয়। যেমন- খুসখুস কাশি,
ভাঙ্গা কণ্ঠস্বর, সহজে ঘা না শুকালে, স্তনে বা শরীরের কোথাও কোনো চাকা বা
পিণ্ডের সৃষ্টি হলে, মল ত্যাগের অভ্যাসের পরিবর্তন হলে, ঢোক গিলতে কোনরকম
অসুবিধা বা হজমে অসুবিধা হলে, তিল কিংবা আচিলের কোনো সূক্ষ পরিবর্তন হলে।
সাধারণভাবে এই সাতটি বিপদ সংকেতের কথা সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাপকভাবে
প্রচার হলে প্রাথমিক অবস্থায় ক্যানসার প্রতিরোধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন
করা সম্ভব। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসার মাধ্যমে ক্যান্সারকে অনেকাংশে
নির্মূল করা সম্ভব হয় কিন্তু ক্যান্সার সহজে ধরা না পড়ার কারনে, এ রোগে
মৃত্যুর হার অনেক বেশি। যদিও ক্যান্সার সম্পর্কে ভাল জ্ঞান থাকলে এবং একটু
সচেতন হলে ক্যান্সার থেকে বেচে থাকা যায়।
দীর্ঘ সময় ধরে জ্বর ও কাশি
ঋতু পরিবর্তনের কারনে, অথবা নানান রকম ভাইরাস জ্বরে আমরা সবাই কম বেশি আক্রান্ত হই। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে জ্বরে আক্রান্ত থাকলে এবং জ্বরের সাথে কাশি থাকলে, অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। এছাড়াও ঘন ঘন জ্বর উঠাকেও কোনভাবেই অবহেলা করা উচিত নয়। কারন দীর্ঘমেয়াদে জ্বর এবং জ্বরের সাথে কাশি, ব্লাড ক্যান্সার, লিম্ফোমা অথবা লিউকোমিয়ার লক্ষণ। এক্ষেত্রে অতিদ্রুত ডাক্তার দেখানো প্রয়োজন।
রক্তপাত
কফ অথবা কাশির সাথে রক্ত আসলে এটি ফুসফুসের ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। প্রস্রাব অথবা পায়খানার সাথে রক্ত বের হলে এটি ব্লাডার ক্যান্সারের কারন হতে পারে। মহিলাদের ক্ষেত্রে স্তন থেকে রক্ত বের হলে এটি স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। এছাড়াও মহিলাদের মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ অথবা মাসিকের সময় ব্যতিত অন্য কোনো সময়ে রক্তক্ষরণ হলে এটিও ক্যান্সারের লক্ষণ। এইসকল লক্ষণ পরিলক্ষিত হলে অতি দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।
ক্যান্সার নির্ণয়ে স্ক্রিনিং
বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার মতে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সাধারণত তিন ধরনের ক্যানসারের আশঙ্কা বেশি থাকে। প্রথমটি মুখ গহ্বভরের ক্যানসার, দ্বিতীয়টি স্তন ক্যানসার এবং তৃতীয়টি জরায়ু মুখের ক্যানসার। তাই এইসকল ক্ষেত্রে সাবধানতা বশত স্ক্রিনিং করা যেতে পারে।
ওরাল স্ক্রিনিং
একটি নিদির্ষ্ট বয়সের পরে সব নারী পুরুষেরই ওরাল স্ক্রিনিংয়ের চেকআপ করা উচিত। চিকিৎসক ছাড়াও সাধারণ স্বাস্থ্যকর্মী দিয়েও এই রোগ নির্ণয় করা যায়। তিনটি বিষয় শিখলেই মুখ গহ্বরের ক্যানসার সহজেই নির্ণয় করা যায়। মুখ গহ্বরের ভেতর যে ঝিল্লি থাকে সেই মিউকাস ম্যামব্রেনে যদি লাল লাল ছোপ দেখা দেয়, সাদা খসখসে আবরনের মতো পড়ে অথবা মিউকাস মেমব্রেনের নিচের দিকে একটি ছোট্ট ঘা হয় তাহলে ভাবতে হবে ওই ব্যক্তির মুখ গহ্বরে ক্যানসার হয়েছে। এই বিষয়গুলো স্বাস্থ্যকর্মী নির্ণয় করার পর পরবর্তীতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নিকট পাঠাবে। স্বাভাবিক চিকিৎসা নেওয়ার পরও যদি লক্ষণসমূহ দেখা যাওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে কোন উন্নতি অথবা পরিবর্তন না হয় তখন অবশ্যই অতি দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
জরায়ু মুখের ক্যানসার নির্ণয়
জরায়ু মুখের ক্যানসার নির্ণয়ে পেপটেস্ট পরীক্ষা করা হয়। রোগীকে শুইয়ে স্পেকুলাম দিয়ে জরায়ুর মুখটি একটু দেখা হয়। একটি স্পেচুলা যেটা আইসক্রিমের চামচের মতো দেখতে, সেটা দিয়ে জরায়ুতে ঘুরিয়ে কস নিয়ে আসা হয়। এই কস মাইক্রোস্কোপে পরীক্ষা করে দেখা হয় ক্যানসার আছে কি না। এই পদ্ধতিটি কিছুটা ব্যয়বহুল। তাই দরিদ্র দেশের জন্য আরেকটি পদ্ধতি বেশ প্রচলিত হয়ে গেছে, যেটা ভায়া ( ভিজুয়াল ইন্সপেকশন বাই এসিডিক এসিড) নামে পরিচিত। কাঠির মাথায় তুলা লাগানো এক ধরনের পরীক্ষণ যন্ত্র বা সপস্টিক দিয়ে পরীক্ষাটি করা হয়। এসিডিক এসিডে সপস্টিক ভেজানো হয় এবং জরায়ুর মুখ খুলে সপস্টিক স্পর্শ করা হয়। রঙের পরিবর্তন হলে ভায়া পজিটিভ এবং কোন পরিবর্তন না হলে ভায়া নেগেটিভ। তবে ভায়া পজিটিভ মানেই কিন্তু ক্যারনসার নয় আবার অপরদিকে ভায়া নেগেটিভ মানেই কিন্তু ক্যানসার থেকে মুক্ত এমন নয়।
মানব দেহের গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ হচ্ছে কিডনি। পৃথিবীতে মানবজাতি যেসব প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে তার মধ্যে কিডনি রোগ অন্যতম। এই কিডনি রোগ খুব নীরবে শরীরের ক্ষতি করে। খুব জটিল অবস্থা না হওয়া পর্যন্ত সাধারণত লক্ষণগুলো ভালোভাবে প্রকাশও পায় না। তাই কিডনি রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলো আগে থেকেই জেনে রাখা জরুরি। সেই সঙ্গে জানা দরকার এর সঠিক চিকিৎসা কি হবে।
আসলে কিডনি রোগ হলে এর লক্ষণগুলো কি হবে?
আসলে কিডনি বিকল হয়ে যাওয়ার লক্ষণ যদি বলি তবে ৭০ থেকে ৮০ ভাগ বিকল হওয়ার আগে কোনভাবেই প্রকাশ পায় না। এ অবস্থায় দেখা যায় খাওয়ায় অরুচী, বমি বমি ভাব, মাঝে মাঝে ঘুম থেকে উঠলে চোখ-মুখ ফোলা দেখানো অর্থাৎ চোখের নিচের অংশ বেশি ভারি ভারি হয়ে থাকে। এছাড়া আস্তে আস্তে রক্ত শূণ্যতা দেখা দেয়। চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে আসে। আরও যদি বেশি ঝুঁকিতে থাকে তবে বিনা কারণে শরীর চুলকাবে, গায়ের রঙ পরিবর্তন হয়ে যাবে। রাতে অনেকবার প্রস্রাব করতে হয়। কারও কারও উচ্চ রক্তচাপ দেখা দিতে পারে।
কিডনি বিকল কি শুধু শুধু হয়?
না। কখনওই শুধু শুধু কিডনি বিকল হবে না।
অনেকগুলো রোগের শেষ পরিনতি এটি। সেই রোগগুলো প্রাথমিক অবস্থায় সনাক্ত করা
সম্ভব। যেমন ধরুন- প্রস্রাব যদি কখনও কমে যায়। অথবা কারও দেখা যাচ্ছে রাতে
প্রস্রাব হতো না এখন হচ্ছে। প্রস্রাব করার সময় জালাপোড়া হয়। প্রস্রাব করার
পরেও কিছু প্রস্রাব থেকে যায়। এর সঙ্গে কোমড়ের দুই পাশে ব্যথা এবং কাপুনি
থাকে। আবার দেখা যাচ্ছে প্রস্রাবে প্রচুর ফেনা থাকে। মুখ ফুলে যায় তবে মনে
করতে হবে কিডনির প্রদাহ বোঝায়।
আবার দেখা যায় যে প্রস্রাব লাল হচ্ছে অর্থাৎ প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাচ্ছে। তবে এই রক্ত যাওয়া অনেক কারণে হতে পারে যেমন কিডনিতে পাথর থাকলে। টিউমার থাকলে হতে পারে। অনেক কারণেই প্রস্রাবে রক্ত যেতে পারে। অনেক সময় ভিটামিন খেলেও প্রস্রাব হলুদ হতে পারে। আবার পানি কম খেলেও হলুদ হয়। সকালে ঘুম থেকে উঠলেও প্রস্রাব হলুদ হয়। এটা আসলে কোন রোগ না।
প্রধান কি লক্ষণ দেখলে রোগী বুঝবে যে তার কিডনিতে সমস্যা হয়েছে?
শরীর যদি ফুলে যায়, আর সেই ফোলাটা যদি শুরু হয় মুখমন্ডল থেকে।
প্রস্রাবের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলোনায় কমে গেলে।
প্রস্রাব যদি লাল হয় বা রক্ত যায়।
কোমড়ের দুই পাশে যদি ব্যথা হয়। এই ব্যথা তলপেটেও হতে পারে।
উচ্চ রক্তচাপ দেখা দিলে।
তাছাড়া কিছু রোগ আছে যা থাকলে তাদের অবশ্যই কিডনি পরীক্ষা করে নিতে হবে। যেমন ধরুন : কারও যদি ডায়াবেটিক থাকে, উচ্চ রক্তচাপ থাকে, কখন যদি কারও মুখমন্ড ফুলে গিয়ে থাকে, যদি কারও ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে, এমন কোন মানুষ যদি থাকে যে খুব বেশি হাটাচলা করেন না-বসে বসে কাজ করেন, কোন করণে যার দীর্ঘদিন ব্যথার ঔষুধ খেতে হয়েছে এবং যারা পানি কম পানে অভ্যস্থ, বংশে যদি কারও কিডনি রোগ থাকে এসব ইতিহাস থাকলে বছরে অন্তত দুইবার কিডনি পরীক্ষা করা উচিৎ। তথ্যঃ ekushey-tv