ক্যান্সার : লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধের উপায়

দিন দিন ক্যান্সার যেমন বাড়ছে, পাশাপাশি বাড়ছে এই রোগটি সম্পর্কে সচেতনতা। ক্যান্সার মানেই মৃত্যু নয় এটা আজ মানুষ বুঝতে পেরেছে । সচেতনতার কারনে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সুযোগও বাড়ছে। প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পরলে এবং চিকিৎসা করলে ক্যান্সার পুরোপুরি সেরেও যেতে পারে অথবা ক্যান্সারকে নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেক সহজ হয়। বাড়ন্ত অবস্থায় ধরা পড়লেও বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে রোগীর কষ্ট কষ্ট অনেকটা কমানো যেতে পারে।

টিউমার মানেই কি ক্যান্সার?

টিউমার মানেই কিন্তু ক্যান্সার নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে মানুষের সচেতনতা দিন দিন বৃদ্ধির পাশাপাশি নানা রকম রোগের ভীতি যোগ হচ্ছে। আজকাল অনেকেই ছোট একটি টিউমার হলেই ক্যান্সার হল ভেবে দুঃশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়েন। অনেক সময় চিকিৎসক বুঝিয়ে বলার পরও ভয় কাটতে চায় না। আমাদের টিউমার বা ক্যান্সার সম্বন্ধে প্রাথমিক কিছু ধারণা না থাকার কারনে অনেক পরীক্ষার পরও ভয় থেকে যায়, রিপোর্টে সঠিক আছে কিনা? তাই । টিউমার বা ক্যান্সার সম্বন্ধে প্রাথমিক কিছু তথ্য জেনে নিন।

ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার লক্ষন?

অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজন সংক্রান্ত সকল রোগের সমষ্টিই ক্যান্সার নামে পরিচিত। এই রোগে মৃত্যুর হার অন্যান্য রোগের তুলনায় অনেক বেশি। এরোগের ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। সাধারণত প্রতি চার(৪) জন ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে ১ জন ব্যক্তি মারা যায়। সাধারণত সাতটি বিষয়কে ক্যানসারের বিপদ সংকেত বলা হয়। যেমন- খুসখুস কাশি, ভাঙ্গা কণ্ঠস্বর, সহজে ঘা না শুকালে, স্তনে বা শরীরের কোথাও কোনো চাকা বা পিণ্ডের সৃষ্টি হলে, মল ত্যাগের অভ্যাসের পরিবর্তন হলে, ঢোক গিলতে কোনরকম অসুবিধা বা হজমে অসুবিধা হলে, তিল কিংবা আচিলের কোনো সূক্ষ পরিবর্তন হলে। সাধারণভাবে এই সাতটি বিপদ সংকেতের কথা সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাপকভাবে প্রচার হলে প্রাথমিক অবস্থায় ক্যানসার প্রতিরোধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন করা সম্ভব। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসার মাধ্যমে ক্যান্সারকে অনেকাংশে নির্মূল করা সম্ভব হয় কিন্তু ক্যান্সার সহজে ধরা না পড়ার কারনে, এ রোগে মৃত্যুর হার অনেক বেশি। যদিও ক্যান্সার সম্পর্কে ভাল জ্ঞান থাকলে এবং একটু সচেতন হলে ক্যান্সার থেকে বেচে থাকা যায়।

দীর্ঘ সময় ধরে জ্বর ও কাশি

ঋতু পরিবর্তনের কারনে, অথবা নানান রকম ভাইরাস জ্বরে আমরা সবাই কম বেশি আক্রান্ত হই। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে জ্বরে আক্রান্ত থাকলে এবং জ্বরের সাথে কাশি থাকলে, অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। এছাড়াও ঘন ঘন জ্বর উঠাকেও কোনভাবেই অবহেলা করা উচিত নয়। কারন দীর্ঘমেয়াদে জ্বর এবং জ্বরের সাথে কাশি, ব্লাড ক্যান্সার, লিম্ফোমা অথবা লিউকোমিয়ার লক্ষণ। এক্ষেত্রে অতিদ্রুত ডাক্তার দেখানো প্রয়োজন।

রক্তপাত

কফ অথবা কাশির সাথে রক্ত আসলে এটি ফুসফুসের ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। প্রস্রাব অথবা পায়খানার সাথে রক্ত বের হলে এটি ব্লাডার ক্যান্সারের কারন হতে পারে। মহিলাদের ক্ষেত্রে স্তন থেকে রক্ত বের হলে এটি স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। এছাড়াও মহিলাদের মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ অথবা মাসিকের সময় ব্যতিত অন্য কোনো সময়ে রক্তক্ষরণ হলে এটিও ক্যান্সারের লক্ষণ। এইসকল লক্ষণ পরিলক্ষিত হলে অতি দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।

ক্যান্সার নির্ণয়ে স্ক্রিনিং

বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার মতে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সাধারণত তিন ধরনের ক্যানসারের আশঙ্কা বেশি থাকে। প্রথমটি মুখ গহ্বভরের ক্যানসার, দ্বিতীয়টি স্তন ক্যানসার এবং তৃতীয়টি জরায়ু মুখের ক্যানসার। তাই এইসকল ক্ষেত্রে সাবধানতা বশত স্ক্রিনিং করা যেতে পারে।

ওরাল স্ক্রিনিং

একটি নিদির্ষ্ট বয়সের পরে সব নারী পুরুষেরই ওরাল স্ক্রিনিংয়ের চেকআপ করা উচিত। চিকিৎসক ছাড়াও সাধারণ স্বাস্থ্যকর্মী দিয়েও এই রোগ নির্ণয় করা যায়। তিনটি বিষয় শিখলেই মুখ গহ্বরের ক্যানসার সহজেই নির্ণয় করা যায়। মুখ গহ্বরের ভেতর যে ঝিল্লি থাকে সেই মিউকাস ম্যামব্রেনে যদি লাল লাল ছোপ দেখা দেয়, সাদা খসখসে আবরনের মতো পড়ে অথবা মিউকাস মেমব্রেনের নিচের দিকে একটি ছোট্ট ঘা হয় তাহলে ভাবতে হবে ওই ব্যক্তির মুখ গহ্বরে ক্যানসার হয়েছে। এই বিষয়গুলো স্বাস্থ্যকর্মী নির্ণয় করার পর পরবর্তীতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নিকট পাঠাবে। স্বাভাবিক চিকিৎসা নেওয়ার পরও যদি লক্ষণসমূহ দেখা যাওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে কোন উন্নতি অথবা পরিবর্তন না হয় তখন অবশ্যই অতি দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

জরায়ু মুখের ক্যানসার নির্ণয়

জরায়ু মুখের ক্যানসার নির্ণয়ে পেপটেস্ট পরীক্ষা করা হয়। রোগীকে শুইয়ে স্পেকুলাম দিয়ে জরায়ুর মুখটি একটু দেখা হয়। একটি স্পেচুলা যেটা আইসক্রিমের চামচের মতো দেখতে, সেটা দিয়ে জরায়ুতে ঘুরিয়ে কস নিয়ে আসা হয়। এই কস মাইক্রোস্কোপে পরীক্ষা করে দেখা হয় ক্যানসার আছে কি না। এই পদ্ধতিটি কিছুটা ব্যয়বহুল। তাই দরিদ্র দেশের জন্য আরেকটি পদ্ধতি বেশ প্রচলিত হয়ে গেছে, যেটা ভায়া ( ভিজুয়াল ইন্সপেকশন বাই এসিডিক এসিড) নামে পরিচিত। কাঠির মাথায় তুলা লাগানো এক ধরনের পরীক্ষণ যন্ত্র বা সপস্টিক দিয়ে পরীক্ষাটি করা হয়। এসিডিক এসিডে সপস্টিক ভেজানো হয় এবং জরায়ুর মুখ খুলে সপস্টিক স্পর্শ করা হয়। রঙের পরিবর্তন হলে ভায়া পজিটিভ এবং কোন পরিবর্তন না হলে ভায়া নেগেটিভ। তবে ভায়া পজিটিভ মানেই কিন্তু ক্যারনসার নয় আবার অপরদিকে ভায়া নেগেটিভ মানেই কিন্তু ক্যানসার থেকে মুক্ত এমন নয়।

তথ্যমতে, ই হাসপাতাল

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started